About BQSS

সোসাইটির ভিশন মিশন ও প্রকৃতি

মহান আল্লাহর কিতাব আল কুরআন পড়া, জানা, বুঝা, অনুসরণ ও ইত্তেবা করার প্রেরণা সৃষ্টি ও প্রচেষ্টা চালানোর মহতি উদ্দেশ্য নিয়ে এবং এ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহ পাকের রেজামন্দি হাসিল করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি ।

আল কুরআন মূলত আল্লাহ প্রদত্ত মানব জাতির জীবন যাপনের গাইড বুক । মহান আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই বাদত, আনুগত্য ও হুকুম পালন করে চলার জন্যে।

আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতা’য়ালা তাঁর আখেরি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে মানুষের জন্যে তাঁর হুকুম মতো জীবন যাপনের বিধান হিসাবে আল কুরআন নাযিল করেছেন। সুতরাং আল কুরআনই মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি, মুক্তি, কল্যাণ ও সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ।

কিন্তু, আমাদের দেশের অনেক মানুষই এ মহাগ্রন্থের মর্মবাণী সম্পর্কে অবহিত নন। অনেকেই কুরআন মজিদ পড়তে পারেন, কিন্তু এর মর্ম বুঝতে পারেন না। আবার অনেকেই কুরআন মজিদ পড়তেও শিখেননি। তাছাড়া মহান আল্লাহর বাণী ও নির্দেশ হিসেবে আল কুরআনকে জানা, মানা ও অনুসরণ করা যে সবচেয়ে বড় ফরয কাজ, এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ও অনেকে অনুভব করেন না।

তাই, কুরআন মজিদ ব্যাপকভাবে পড়তে শিখা ও শিখানো, এর মর্ম ও তাত্পর্য উপলব্ধি করা ও করানো, এর অনুসরণ ও প্রবর্তন করা এবং কুরআনি শিক্ষার ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে ১৯৯ ৪সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘বাংলাদেশকুরআনশিক্ষাসোসাইটি’।

সোসাইটির মূল শ্লোগান হলো

কুরআন জানুন, কুরআন মানুন


জানার জন্যে কুরআন পড়ুন, মানার জন্যে কুরআন পড়ুন

এ সোসাইটি একটি অলাভজনক সংস্থা। সোসাইটির যাবতীয় আয় এর লক্ষ্য অর্জন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও জনকল্যাণের কাজে ব্যয় হয়।

এটি একটি রেজিস্টার্ড সংস্থা।

বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটির স্থায়ী কর্মসূচি হলো:

  1. সকল শ্রেণির মানুষকে ব্যাপক ভাবে কুরআন শিখা, শিক্ষা দান করা এবং কুরআন অনুসরণ ও চর্চার কাজে উদ্বুদ্ধ করা।
  2. কুরআন ক্লাস, দরসুল কুরআন ও কুরআন তফসিরের ব্যাপক আয়োজন করে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেয়া।
  3. কুরআন শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
  4. কুরআনের বাণী ও মর্মকথা ব্যাপক প্রচারের উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ।
  5. ইসলামি বই পুস্তক প্রকাশ করা এবং পাঠাগার গড়ে তোলা।
  6. সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আলোচনা সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠান করা।
  7. কুরআন ভিত্তিক গবেষণা কর্ম পরিচালনা করা।
  8. উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অর্জনের সহায়ক অন্যান্য উপায় ও কার্যক্রম গ্রহণ করা।

সোসাইটির সদস্য পদ দুই প্রকার:

  1. প্রতিনিধি
  2. সদস্য।

কুরআন মজিদ,পড়তে, বুঝতে, অনুসরণ,করতে এবং এর শিক্ষা প্রচার করতে আগ্রহী পুরুষ কিংবা মহিলা যেকোনো ব্যক্তিই এ সোসাইটির সদস্য হতে পারেন, যদি তিনি নিজের কর্তব্য হিসাবে:

  1. কুরআন মজিদ পড়তে শিখার চেষ্টা করেন এবং নিয়মিত পাঠ করেন;
  2. কুরআন মজিদ বুঝার জন্যে নিয়মিত চেষ্টা করেন;
  3. সোসাইটি পরিচালিত বিভিন্ন প্রোগ্রামে যোগদান করেন;
  4. নিজে কুরআন সুন্নাহ মেনে চলার চেষ্টা করেন এবং অন্যদেরকে বুঝতে ও মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন;
  5. কুরআন শিক্ষা সোসাইটিকে ভালোবাসেন এবং সামর্থ অনুযায়ী এ সোসাইটিকে সাহায্য সহযোগিতা করেন। সদস্যরাই প্রতিনিধি হয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটির আয়ের উত্স হলো সদস্য ও শুভাকাঙ্খীদের আর্থিক সাহায্য এবং দানশীল ব্যক্তিগণের দান, অনুদান, ওয়াকফ, হেবা, উপহার, যাকাত ইত্যাদি। সোসাইটির যাবতীয় আয় এর উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয় করা হয়। সোসাইটি যে কোনো নেক নিয়তের দান গ্রহণ করে।

সোসাইটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করেন একটি পরিচালনা পরিষদ।

সভাপতি প্রতিনিধিগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দুই বত্সরের জন্যে নির্বাচিত হন।

সভাপতির অনুরূপ মেয়াদে সোসাইটির একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকে। কুরআন অনুরাগী সম্মানিত সুধীজনের সমন্বয়ে এই পরিষদ গঠিত হয়।

সোসাইটির কার্যক্রমে পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে এই পরিষদ গঠন করা হয়।